রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ

ফাহিম হোসেন রিজু

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

ঘোড়াঘাটে কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গত কয়েক দিনের টানা কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে বোরো ধান এবং ভুট্টার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় উপজেলার ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে যায়।

ঝড়ের তাণ্ডবে ঘোড়াঘাট পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বহু ঘরবাড়ি ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়া এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও পরিবহন শ্রমিকরাও কাজ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, তাঁদের এলাকায় অনেকেই ভুট্টা মাড়াই করে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে ভুট্টা বাড়িতে আনলেও বৃষ্টির পানিতে ভিজে তা নষ্ট হচ্ছে। 

এ ছাড়া মাঠের ধান গাছ ও ভুট্টা সব মাটিতে শুয়ে পড়েছে। পালশা ইউনিয়নের আমড়া গ্রামের কৃষক মো. নাদিরুল ইসলাম বলেন, ফসলের মাঠে পানি জমে যাওয়ায় ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। 

সাম্প্রতিক দুর্যোগে এর একটি বড় অংশ আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন দেনা পরিশোধ ও পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ধান ও ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।