জুলাই ১, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় আমের বাজারদর তুলনামূলকভাবে অনেক কম হওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় আম চাষি ও বাগান মালিকেরা। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে এ অঞ্চল আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে উপযুক্ত দাম না থাকায় বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এই এলাকায় জরুরিভিত্তিতে একটি সরকারি আম সংরক্ষণাগার বা হিমাগার স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
হিমাগার না থাকায় সঠিক সময়ে আম সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারছেন না স্থানীয় চাষি ও আড়তদারেরা।উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরল উপজেলা আমের রাজ্য হিসেবে দেশজুড়ে খ্যাত হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি উৎপাদনকারীদের পক্ষে নেই। চলতি মৌসুমে তীব্র তাপদাহ ও অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার কারণে সময়ের অনেক আগেই গাছগুলোতে আম পাকতে শুরু করেছে।
এর ওপর আমে ক্ষতিকর কেমিক্যাল বা ফরমালিনের ব্যবহার ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে চাষিরা সময়ের আগেই গাছ থেকে আম পেড়ে স্থানীয় বাজারে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারে হু হু করে আমের দাম পড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানিয়েছেন, চলতি বছর বিরল উপজেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের আমের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে এই উপজেলায় শতাধিক বড় আমের বাগান রয়েছে, যেখানে বাড়ি আম-চার, মিশ্রিভোগ, সূর্যপুরী, আম্রপালি, হাড়িভাঙ্গা ও গুটি আমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় ফলন কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এবং দূরবর্তী জেলাগুলোতে পাঠানোর বা বিদেশে রপ্তানির পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার যদি আগামী বছর এই অঞ্চলে একটি আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ বা সংরক্ষণাগার তৈরি করে, তবেই এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আম চাষিরা টিকে থাকতে পারবেন বলে বাগান মালিকেরা মনে করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন