সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুরে কুমারী পূজা রামকৃষ্ণ আশ্রমে ভক্তি আর শ্রদ্ধায় আরাধনা

মো: মামুনুর রশিদ

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

দিনাজপুরে কুমারী পূজা রামকৃষ্ণ আশ্রমে ভক্তি আর শ্রদ্ধায় আরাধনা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা অষ্টমী তিথিতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় দিনাজপুর রামকৃষ্ণ আশ্রমের স্বামী অমৃতত্বানন্দ ভবন ও আশ্রম শতবর্ষ মিলনায়তনে এ বিশেষ পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পূজা ঘিরে আশ্রম প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। শহরের সুশান্ত মিশ্রের সাত বছর বয়সী কন্যা শ্রী অমৃতা মিশ্রকে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে দেবীজ্ঞানে ভক্তরা পূজা করেন।

আচার অনুযায়ী কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র, পায়ে আলতা, সিঁথিতে সিঁদুর ও নানা অলংকারে অপরূপ সাজে সজ্জিত করা হয়। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, শঙ্খের আওয়াজ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পূজামণ্ডপ।

শাস্ত্রীয় বিধিমতে পূজা পরিচালনা করেন সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী বিভাত্মানন্দ মহারাজ।

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে সাধারণত এক থেকে সাত-আট বছর বয়সী সুলক্ষণা অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী প্রতিমা হিসেবে পূজা করার বিধান রয়েছে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কথামৃত অনুযায়ী, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে দেবী ভগবতীর রূপ সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয় এবং জগৎজুড়ে মাতৃরূপের শক্তি উপলব্ধি করাই এর মূল লক্ষ্য।

অসুর মনোবৃত্তি পরিহারের বার্তা দেন মহারাজ।

পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী বিভাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, কুমারী পূজার মূল শিক্ষা হলো নিজের ভেতরের সব আসুরিক অহংকার ও পাশবিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে নারীজাতিকে শ্রদ্ধার সাথে মাতৃজ্ঞানে উপলব্ধি করা।