রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে বার্তা দিল সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে বার্তা দিল সরকার

জ্বালানি তেলের সরবরাহ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামের মুখে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোও ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণের পথে হাঁটছে। 

বাংলাদেশেও বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়লেও আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে তেলের দাম নতুন করে বাড়ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন যে, ঈদের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। 

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে দেশে তেলের মজুত বর্তমানে নিরাপদ ও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সম্ভাব্য তেলের সংকটের কথা বলে কেউ যাতে ঈদযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে বা তেলের অযুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। 

বাসসহ সকল গণপরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দেন।সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং জনগণের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা বন্ধ করতে গত রবিবার থেকে দেশজুড়ে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। 

ব্যক্তিগত কারের ক্ষেত্রে এই সীমা ১০ লিটার এবং জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় যানবাহনের মধ্যে বাস বা ট্রাক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। তেল কেনার পর সংগৃহীত রসিদ পরবর্তী সময়ে তেল নেওয়ার জন্য প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তেলের বাজারে নৈরাজ্য ও অবৈধ মজুত বন্ধে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সোমবার সকাল থেকেই অভিযান পরিচালনা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে আসাদ গেট, গাবতলী ও মহাখালীর বেশ কিছু ফিলিং স্টেশনে নিয়ম মেনে তেল বিক্রি করতে দেখা গেলেও তেজগাঁও ও কল্যাণপুরের কয়েকটি পাম্প তেলশূন্য বা ড্রাই অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলবাহী গাড়ি পৌঁছালেই দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে। মহাখালীর একটি পাম্পে তেলের পরিমাপে কারচুপি পাওয়ায় সেটিকে সতর্ক করে পুনরায় সঠিক মাপে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে তেল নিয়ে হাহাকার করার কোনো কারণ নেই। সোমবার আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তার কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তেলের প্রকৃত অভাবের জন্য নয়। সরকার আশা করছে, এই ব্যবস্থার ফলে অসাধু মজুতদারদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।