শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

তিন মাসে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

তিন মাসে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো

প্রবাসী আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট তিন মাসে ৮৬৭ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। এটি আগের তিন মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ আয়ের মধ্যে বরাবরের মতো একক দেশ হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে সৌদি আরব। 

সেখান থেকে ১৩০ কোটি ৬১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

রেমিট্যান্স আহরণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত যেখান থেকে ১১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার এসেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।

 ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।একই সময়ে দেশ থেকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স আরও বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে কাজের জন্য গিয়েছেন যার মধ্যে ৬৩ শতাংশের বেশিই গেছেন সৌদি আরবে। 

এছাড়া কাতার সিঙ্গাপুর ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক পাড়ি জমিয়েছেন। বিদেশগামীদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ২২৫ জন। জনশক্তি রপ্তানির এই হার স্বাভাবিক থাকলে এবং হুন্ডি প্রতিরোধ করা সম্ভব হলে প্রবাসী আয়ের এই ধারা ভবিষ্যতে আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।ব্যাংকিং চ্যানেলের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় মোট রেমিট্যান্সের সিংহভাগ বা ৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে যার পরিমাণ ৬১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। 

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৯ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এর বিপরীতে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসার হার ছিল অত্যন্ত নগণ্য যা মোটের মাত্র শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এর নির্দেশিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যদি রেমিট্যান্স আসার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তবে আগামীতে ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।