শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

এপ্রিলের প্রথম ৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৭.৫ কোটি ডলার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

এপ্রিলের প্রথম ৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৭.৫ কোটি ডলার

বাড়ছে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির বার্তা দিয়ে চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে বড় ধরণের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম আট দিনেই প্রবাসীরা বৈধ পথে প্রায় ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। 

অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন।

প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার।

 গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, কারণ সে সময় রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ বার্ষিক ভিত্তিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে এই বাড়তি আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।এর আগে বিদায়ী মার্চ মাসেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে এক ধরণের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। ওই মাসে প্রবাসীরা প্রায় ৩৭৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীরা এখন হুন্ডির মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা মনে করছেন সরকারি প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হওয়া। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই বর্তমান ধারা যদি আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকে, তবে চলতি অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশ রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যে ধরণের চাপ ছিল, এই বাড়তি প্রবাসী আয় তা মোকাবিলা করতে সরকারকে বড় ধরণের সহায়তা দেবে। বিশেষ করে আমদানির দায় মেটানো এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এটি একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক চিত্র দেশের বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি শুভ লক্ষণ বলে মনে করা হচ্ছে।