এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:২০ এএম
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাত শিগগিরই প্রশমিত হতে পারে—এমন ইতিবাচক আশাবাদ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা তেলের বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার কথা নিশ্চিত করেছে।প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার্স মূল্য এক শতাংশের বেশি কমেছে।
বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল ৯৮ দশমিক ০৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেশ কমেছে। মার্কিন তেলের দাম এখন প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।
তেলের বাজারের এই চিত্র গত কয়েক মাসের তুলনায় বেশ ভিন্ন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।এর আগে গত মার্চ মাসে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। কূটনৈতিক তৎপরতা ও সংঘাত থামার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি খাতে।
যদিও তেলের দাম বর্তমানে ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে এসেছে, তবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল ছিল। পুরো সপ্তাহজুড়ে তেলের দাম ৯০ ডলারের ঘরেই ঘোরাফেরা করছিল। বর্তমান পতনের ফলে বড় আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য কিছুটা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি পুনরায় উত্তপ্ত হয়, তবে তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়তে পারে। আপাতত বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মনে কিছুটা স্বস্তি জোগাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন