রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কমালো এনবিআর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৪, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কমালো এনবিআর

চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছু হটেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের শুরুতে সংস্থাটির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। তবে বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে সংস্থাটি বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে।

অর্থ বিভাগ ও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে এনবিআর। যদিও দাপ্তরিকভাবে কাগজে-কলমে মূল লক্ষ্যমাত্রায় এখনো কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

এনবিআরের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অর্থবছর শেষে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব হলে সেটিই হবে তাঁদের জন্য বড় সাফল্য। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র তিন শতাংশ। 

এবার নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলেও অন্তত ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ কোনো নাটকীয় পরিবর্তন না আসায় বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগ মিলে মার্চ পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাকি তিন মাসে এনবিআরকে আরও এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ আগামী তিন মাস প্রতি মাসে গড়ে ৪৭ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যেখানে এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ আদায়ের রেকর্ড মাত্র ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অলিগার্কি গোষ্ঠীর আত্মগোপন ও ব্যবসায়ী কার্যক্রমে স্থবিরতা রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়াও সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

এনবিআর কর্মকর্তারা বর্তমান জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং শিল্প কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কমেছে। পাশাপাশি দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও গত কয়েক মাসে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে পতন দেখা গেছে। সব মিলিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এনবিআরকে এখন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।