রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশকে মানতে হবে ১৩১ শর্ত, যুক্তরাষ্ট্রকে ৬

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৪, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

বাংলাদেশকে মানতে হবে ১৩১ শর্ত, যুক্তরাষ্ট্রকে ৬

বাণিজ্য চুক্তির শর্ত বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর একতরফাভাবে বিপুল পরিমাণ বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে যেখানে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি বাধ্যতামূলক শর্ত রাখা হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শর্ত রয়েছে মাত্র ৬টি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে দুই দেশের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ (এআরটি) শীর্ষক এই চুক্তিটি সই হয়।

চুক্তির নথিতে ব্যবহৃত ভাষার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাধ্যতামূলক বিষয়গুলোতে ইংরেজি ‘শ্যাল’ (shall) শব্দটি মোট ১৭৯ বার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ বা বাংলাদেশের জন্য পালনীয় বাধ্যবাধকতা এসেছে ১৩১ বার। 

অন্যদিকে ‘ইউএস শ্যাল’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৬ বার। চুক্তিতে ‘উইল’ (will) বা ইচ্ছাধীন বিষয়টি ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র ৩ বার।চুক্তির মূল ধারাগুলোতে শুল্ক, কোটা, মেধাস্বত্ব এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। 

প্রথম ধারার শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্ক বসাবে এবং কোনো প্রকার কোটা সুবিধা দিতে পারবে না। অশুল্ক বাধা অপসারণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, মার্কিন পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্র, পরীক্ষা বা মান যাচাইয়ের নিয়ম করা যাবে না যা বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। মার্কিন বা আন্তর্জাতিক মান মেনে চলে এমন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা যাবে না।চুক্তিতে কৃষিপণ্য ও মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ মেধাস্বত্বের শক্ত সুরক্ষার পাশাপাশি কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন ঠেকাতে সীমান্ত ও অনলাইন পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়াও ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমন কোনো কর আরোপ করতে পারবে না যা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি করে। ব্যবসার প্রয়োজনে দুই দেশের মধ্যে নিরাপদ ডেটা আদান-প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রয়েছে।

শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়েও বাংলাদেশের ওপর শর্তারোপ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রম বা শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত কোনো পণ্য আমদানি করা যাবে না। এ ছাড়াও সীমান্ত কর এবং ভ্যাট ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর প্রতি কোনো বৈষম্যমূলক নীতি নেওয়া যাবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সীমান্ত দিয়ে মার্কিন পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেয়, তবে বাংলাদেশকে আলোচনার পর একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি তৃতীয় দেশের কোনো কোম্পানির মাধ্যমে নিজেদের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে, তবে বাংলাদেশকে সেই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। জাতীয় সংসদে এই চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশের জন্য প্রতিকূল বলে মনে করছেন এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন।