সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
তীব্র জ্বালানি সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে এমনিতেই বহুমুখী চাপে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। এর মধ্যে নতুন পে-স্কেলের প্রভাবে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর নতুন চাপ তৈরি হওয়ায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা বর্তমান পরিস্থিতিতে মজুরি বৃদ্ধির যেকোনো সিদ্ধান্তকে শিল্পের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়কর বলে আখ্যা দিয়েছেন। এটি শিল্পের জন্য `মরার উপর খাঁড়ার ঘা` হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের পাঁচ ভাগের চার ভাগই আসে এই তৈরি পোশাক খাত থেকে। গত অর্থবছরে এই আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে শিল্পটিতে ৩৬ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি মূলত এই তুলনামূলক সস্তা শ্রম। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং তিন বছর পর পর তা সমন্বয়ের আইনি বিধান রয়েছে।
সবশেষ সুপারিশ অনুযায়ী শ্রমিকদের বছরে ৯ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির কথা। কিন্তু টানা চার-পাঁচ বছর ধরে চলা প্রায় ১০ শতাংশ চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের বাড়তি আয় পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে তাদের প্রকৃত আয় বাড়ছে না। নবম পে-স্কেলের আলোচনা সামনে আসায় তারা এখন ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করার জোরালো দাবি তুলছেন।
অন্যদিকে শিল্পের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে উদ্যোক্তারা বলছেন, ট্রাম্প ট্যারিফ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতায় গত দুই বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সংকট এখনো কাটেনি। বিজিএমইএ নেতারা জানান, তাদের তৃতীয় ধাপের অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ কারখানা বর্তমানে কোনোমতে টিকে আছে, যাদের জন্য সরকার ইতিমধ্যে সহায়তা প্যাকেজও দিয়েছে। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের সাথে কঠিন প্রতিযোগিতা করতে হয়। উদ্যোক্তাদের মতে, মজুরি নিয়ে আলোচনা হলে তা শুধু পোশাক খাত নয়, দেশের মোট ছয় কোটি কর্মজীবী মানুষকে নিয়েই হওয়া উচিত।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে দেশের শ্রম আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে শ্রমিকদের জীবনমান ধরে রাখতে হলে বর্তমান সংকট সামাল দিতে সরকারি সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন