শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, ফের ইউরিয়া উৎপাদনে যাচ্ছে সিইউএফএল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, ফের ইউরিয়া উৎপাদনে যাচ্ছে সিইউএফএল

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় সার উৎপাদনে ফিরতে পুরোপুরি প্রস্তুত চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। ইতিমধ্যে কারখানাটির মূল কাঁচামাল তৈরির অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। কারিগরি তদারকি ও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারখানাটি পুরোদমে ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরছে। সার কারখানাটিতে এখন শুরু হয়েছে উৎপাদনের জোর প্রস্তুতি।

কারখানা সূত্র জানায়, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকেই ইউরিয়া তৈরির প্রধান উপাদান অ্যামোনিয়া উৎপাদনের কাজ শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটি বন্ধ থাকার কারণে ইউরিয়া ইউনিটের সংযোগ পাইপলাইন ও বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্রাংশের সুরক্ষা পরীক্ষা এবং নিয়মিত মেরামত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সিইউএফএলের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন দিনাজপুর টিভি ডট কম-কে নিশ্চিত করেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কারখানাটিতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় গ্যাস প্রাপ্তির পরপরই অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং শেষ মুহূর্তের যান্ত্রিক প্রস্তুতি শেষ করে শিগগিরই কারখানার সার্বিক উৎপাদন পুরোদমে চালু করা হবে।

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির বিষয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জাতীয় অগ্রাধিকারের আলোকে দেশের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন সচল রাখতে সার কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস বিতরণ জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সিইউএফএলে প্রতিদিন গড়ে ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কারখানাটির উৎপাদন সচল রাখার স্বার্থে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গ্যাসের এই জোগান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়। কারখানাটি পুরোপুরি সচল হলে অভ্যন্তরীণ কৃষিব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।