সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৪:২৬ পিএম

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটি ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে কমিটি সম্প্রতি পরপর চারটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে। শনিবার (০১ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সভাগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাগুলোতে এসএমই খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়।

গত ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এসএমই খাতের নানা চ্যালেঞ্জ, যেমন অর্থপ্রদানে বিলম্ব, শুল্ক জটিলতা, লাইসেন্স প্রাপ্তি ও ঋণ পাওয়ার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এবং ৮ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তাদের নিয়ে অনলাইনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলো শোনা হয় এবং তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে পাঠানো হয়।

এই আলোচনার ফলস্বরূপ ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে বা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বৈদেশিক অর্ডার থেকে প্রাপ্ত অর্থের ১০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে জমা রাখার নিয়মটি নীতিমালা থেকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া আগাম অর্থপ্রদানের সীমা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ (ইআরকিউ) হিসাব থেকে পরিশোধের সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এনবিআর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে আট অঙ্কের কোডের মধ্যে প্রথম চার অঙ্ক মিলে গেলেই শুল্ক কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করবে।

গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হলো: এসএমই খাতের জন্য চলতি মূলধন বা উদ্যোক্তাবান্ধব নতুন আর্থিক পণ্য ডিজাইন করা; বাণিজ্য লাইসেন্স ছাড়াই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা; এবং ব্যাংকগুলোর পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিকে আকর্ষণীয় করতে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার সমন্বয় করার বিষয়ে মতামত প্রদান।

এছাড়াও, ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তিতে উদ্যোক্তাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মতো সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা পরিবর্তন এবং অনলাইন বিক্রির অর্থ দ্রুত উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে এসএসএল কমার্স ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘সংস্কারের একটি মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিতে গতিশীলতা বাড়ানো। সম্মিলিতভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখে, যদিও তাদের কণ্ঠ কিছু বড় ব্যবসার মতো জোরালোভাবে শোনা যায় না। আমাদের অবশ্যই এসব উদ্যোক্তাদের গতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে হবে এবং তাদের ব্যবসা প্রতিটি পর্যায়ে সহজ করতে হবে—অর্থায়ন থেকে অর্থপ্রদান ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যন্ত। সরকারকে এর সহায়ক হতে হবে, বাধা নয়।’