রকিবুল হাসান মুন্না
ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) রোকেয়া দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। নারী জাগরণ ও শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী।
এরপর বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব।
শোভাযাত্রায় যোগ দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হোসেন উদ্দিন শেখরসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শোভাযাত্রাটি শহীদ আবু সাঈদ চত্বর হয়ে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে গিয়ে শেষ হয়।সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, "নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরস্মরণীয়।
তাঁর দেখানো পথ ধরেই আজ দেশের প্রতিটি স্তরে নারীশিক্ষার বিস্তার ঘটেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।আলোচনার প্রধান বক্তা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, "রোকেয়া ছিলেন বাস্তবতাবাদী লেখক। তুলনামূলক কম লেখালিখি করলেও বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে তিনি এক স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী ধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন।" তিনি নারীকে আত্মনির্ভর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সংগ্রামে রোকেয়ার ভূমিকাকে অনন্য বলে উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বেগম রোকেয়ার স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় আজ দেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।অনুষ্ঠানে 'রোকেয়া-পাঠ' শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সভা পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিক এবং শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোছাঃ সিফাত রুমানা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে রোকেয়া দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজাসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।