এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান নিয়োগে দীর্ঘদিনের প্রচলিত স্থানীয় পদ্ধতি বাতিল করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আজ রোববার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছে।
এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষাভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ১২ হাজার ৯৫১টি পদ শূন্য রয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এসব শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ বাণিজ্যের অবসান ঘটবে এবং প্রকৃত মেধাবীরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।নতুন এই নিয়োগ পদ্ধতির কাঠামো, পরীক্ষার ধরন এবং কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে এনটিআরসিএ। আগামী ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এতে সংস্থার চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত থেকে নতুন পদ্ধতির খুঁটিনাটি দিকগুলো সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন। একই সাথে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এই উদ্যোগকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হলে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমূল এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগ প্রত্যাশীদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, এখন থেকে কেবল মেধার জোরেই শীর্ষ পদে আসীন হওয়া সম্ভব হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন