রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাবিতে চৈত্র সংক্রান্তিতে ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচ অনুষ্ঠিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

জাবিতে চৈত্র সংক্রান্তিতে ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচ অনুষ্ঠিত

জাবিতে ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা

পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুনের আবাহনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে আজ উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ বা জাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবন সংলগ্ন রংপুকুরে ঐতিহ্যবাহী ‘ভেলা বাইচ’ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এই বর্ণিল আয়োজনে মেতে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থীরাও।প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১১টি আবাসিক হল থেকে একটি করে মোট ১১টি সুসজ্জিত ভেলা অংশ নেয়। 

বাঁশের তৈরি এসব ভেলায় চড়ে রংপুকুরের স্বচ্ছ পানিতে বৈঠা হাতে জয়ের নেশায় মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে শহীদ সালাম-বরকত হল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে নবাব সলিমুল্লাহ হল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে কামাল উদ্দিন হল। 

বিজয়ী দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছিল বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে থাকা দারুণ সব পুরস্কার। প্রথম স্থান অধিকারীদের একটি হৃষ্টপুষ্ট রাজহাঁস, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের মুরগি এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের একজোড়া কবুতর উপহার দেওয়া হয়।পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান। তিনি বলেন, পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে আমরা নতুন এক বছরে পা দিচ্ছি। চৈত্র সংক্রান্তির এই আয়োজন আমাদের ভেতরের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও মজবুত করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু মিলে আগামী দিনেও এ ধরণের উৎসবের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে প্রাণবন্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতু এ সময় বলেন, ভেলা বাইচ আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি হলের স্বতঃস্ফূর্ততাই এই আয়োজনকে সফল করেছে। উৎসবমুখর এই আয়োজন ঘিরে রংপুকুর পাড়ে দুপুর থেকেই শত শত শিক্ষার্থীর ভিড় লক্ষ করা যায়। পহেলা বৈশাখের আগের দিনে এমন দেশীয় উৎসব শিক্ষার্থীদের মনে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যান্ত্রিক জীবনে এ ধরনের গ্রামবাংলার খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মের শিকড়ের সন্ধান দিতে সাহায্য করবে।