রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

এসএসসিতে বহিষ্কার বা পরীক্ষা বাতিল হতে পারে যে কারণে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

এসএসসিতে বহিষ্কার বা পরীক্ষা বাতিল হতে পারে যে কারণে

পরীক্ষার্থীদের জন্য কঠোর নিয়ম

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বিশেষ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিলসহ তাকে বহিষ্কারের মতো চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। 

মূলত পরীক্ষার মান ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবার আগেভাগেই এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা চলাকালীন কোনো পরীক্ষার্থী যদি পাশের কারও সঙ্গে কথা বলে বা এদিক-ওদিক তাকিয়ে নকল করার চেষ্টা করে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। 

এছাড়া কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ছাড়া অন্য কোনো প্রকার লিখিত বা মুদ্রিত কাগজ সাথে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ডেস্কে, বেঞ্চে, স্কেলে কিংবা শরীরের কোনো অংশে কোনো কিছু লিখে রাখা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরপত্রের লিথোকোড পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল হতে পারে।বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে জালিয়াতি রোধে বোর্ড বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করেছে। পরীক্ষা কক্ষে কোনোভাবেই মোবাইল ফোন বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাথে রাখা যাবে না। কোনো ডিভাইসে পরীক্ষার বিষয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা ক্ষুদে বার্তা পাওয়া গেলে এবং তা প্রশ্নের উত্তরের সাথে সংগতিপূর্ণ হলে ওই পরীক্ষার্থীকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে। 

এছাড়া উত্তরপত্রে অপ্রাসঙ্গিক কিছু লেখা, অযৌক্তিক মন্তব্য বা পরীক্ষকের কাছে নম্বর বাড়ানোর জন্য কোনো প্রকার অনুরোধ করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।বোর্ডের নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষে কোনো প্রকার গোলযোগ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। যদি কোনো পরীক্ষার্থী নিষিদ্ধ কোনো কাগজপত্র কক্ষ পর্যবেক্ষককে না দিয়ে তা গিলে ফেলার চেষ্টা করে বা নাগালের বাইরে ফেলে দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

একই উত্তরপত্রে যদি দুই রকম হাতের লেখা পাওয়া যায় কিংবা উত্তরপত্র অন্য কারও সঙ্গে বিনিময় করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সবার পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এমনকি নিজের পরীক্ষা দিতে অন্য কোনো ব্যক্তিকে নিযুক্ত করার মতো গুরুতর জালিয়াতি ধরা পড়লে তা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো পরীক্ষার্থী যদি কক্ষ পর্যবেক্ষক বা কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি অসদাচরণ করে, গালাগালি দেয় বা ভীতি প্রদর্শন করে, তবে তার ফলাফল স্থায়ীভাবে বাতিল করার ক্ষমতা রাখে কর্তৃপক্ষ। 

এছাড়া উত্তরপত্র জমা না দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করা বা মূল উত্তরপত্রের পাতা পরিবর্তন করার মতো ঘটনা ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্র সচিবরা বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের তালিকা ও তাদের অপরাধের ধরন নিয়মিতভাবে বোর্ডকে জানাবেন এবং শৃঙ্খলা কমিটি সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষার শুরু থেকেই সব নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য পরীক্ষার্থীদের জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।