এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
দেশের প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই এখন থেকে মেধা ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ পাবেন।
দীর্ঘ এক দশক পর সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিক্ষাবৃত্তির হার নির্ধারিত হয়েছিল।
এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বৃত্তির অর্থমূল্য অপরিবর্তিত ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২ এপ্রিল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিশেষ নির্দেশনায় এই হার বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা খাতে বাৎসরিক ব্যয় ১৮৪ কোটি টাকা থেকে একলাফে বেড়ে প্রায় ৩৬৮ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়াবে।
অর্থ বিভাগের প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাইদুর রহমান জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনাসভায় দেশের সব ধরনের শিক্ষাবৃত্তির হার দ্বিগুণ করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) একটি পূর্ণাঙ্গ ও সংশোধিত প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই সভায় পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও পেশামূলক বৃত্তির মাসিক হার এবং এককালীন বার্ষিক অনুদান দ্বিগুণ করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।মাউশির খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বিভিন্ন স্তরে বৃত্তির মাসিক হারে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রাথমিক স্তরে মেধাবৃত্তির হার মাসিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জুনিয়র বা জেএসসি মেধাবৃত্তি ৪৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা করা হচ্ছে।
একইভাবে এসএসসির মেধাবৃত্তি মাসিক ৬০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসির ক্ষেত্রে মেধাবৃত্তির হার ৮২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির হার ৩৭৫ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৃত্তির হার অপরিবর্তিত থাকায় শিক্ষার্থীরা মুদ্রাস্ফীতির চাপে ছিল। বিগত সরকার এ বিষয়ে উদাসীন থাকলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা তৈরি করে খুব শিগগিরই তা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মাসিক বৃত্তির পাশাপাশি বার্ষিক এককালীন অনুদানের পরিমাণও দ্বিগুণ হচ্ছে। এসএসসিতে মেধাবৃত্তির বার্ষিক অনুদান ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং এইচএসসিতে মেধাবৃত্তির ক্ষেত্রে তা ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৯ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন স্তরে সরকারি বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ৮২ হাজার ৫০০ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ১০ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া স্নাতক ও বিশেষ ক্যাটাগরিতে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা খাতে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং মেধাবীরা উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন