মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শাহবাগে সাংবাদিক পেটানো সেই ছাত্রদল নেতাদের পরিচয় মিলল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১১:১১ পিএম

শাহবাগে সাংবাদিক পেটানো সেই ছাত্রদল নেতাদের পরিচয় মিলল

হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের পরিচয়

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলায় জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একাধিক নেতার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সংঘটিত এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অন্তত ১০ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। 

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা থেকে বিরত হয়নি।আহত সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় জড়িতদের মধ্যে অন্যতম হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় এবং ইমাম আল নাসের মিশুক। 

এছাড়া বিভিন্ন হলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরও সরাসরি এই তাণ্ডবে অংশ নিতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জ্বার গিফারী ইফাত, সদস্য সচিব মনসুর রাফি এবং শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার। 

বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খানকেও হামলায় মারমুখী ভূমিকায় দেখা গেছে।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মনজুর হোসেন মাহী জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজের পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। বিশেষ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র সফি ওবায়দুল রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তেড়ে আসেন। মাহী বলেন যে পরিচয় দেওয়ার পর তারা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। 

এই হামলায় সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী এবং কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রদলের নেতা মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন।হামলার শিকার অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন কালের কণ্ঠের মনজুর হোসেন মাহী, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব এবং নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম। গুরুতর আহত ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। 

সাংবাদিকরা আরও অভিযোগ করেন যে শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রদল নেতা হাসানসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালান।রাইজিং বিডির প্রতিনিধি সৌরভ ইসলাম জানান, শফিকুর রহমান নামের এক কর্মীর অপমানের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের কিছু জুনিয়র কর্মী তাকে মারধরের নির্দেশ দেন। এরপরই তাকে ভিড়ের মধ্যে টেনে নিয়ে কিল-ঘুসি মারা হয়। এ সময় অন্য সাংবাদিকরা তাকে বাঁচাতে এলে তাদের ওপরও লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করা হয়। 

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চিহ্নিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এমন আগ্রাসী আচরণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ বা উচ্চ পর্যায়ের কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তদন্ত ও অপরাধী শনাক্তের এই প্রক্রিয়ায় শনাক্তকৃত ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।