এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:১২ এএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আম্মারের উসকানিমূলক স্ট্যাটাস এবং ছাত্রদলকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রাকিব এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ছাত্রদল সভাপতি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সালাউদ্দিন আম্মারকে মনে রাখা উচিত যে ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বা নির্দিষ্ট কোনো ইউনিটে সীমাবদ্ধ নয়।
আম্মারের জন্মস্থান এবং যেখানে তার পরিবার ও স্বজনরা বসবাস করেন, সেখানেও ছাত্রদলের লাখ লাখ নেতাকর্মী রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ইউনিটে ছাত্রদলের বিশাল ভিত্তি বিদ্যমান বলে তিনি তাকে স্মরণ করিয়ে দেন।রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালাউদ্দিন আম্মারদের মতো ব্যক্তিদের আবির্ভাব ঘটেছে।
অথচ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করে আজ পরীক্ষিত। তারা জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে সেই মজলুম নেতাকর্মীদের নিয়ে আম্মার নিয়মিত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং চরিত্র হনন করে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, যখনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তখনই সালাউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করেন।
আম্মারের বিরুদ্ধে জিয়া পরিবারকে নিয়ে নোংরা মন্তব্য এবং ছাত্রদলকে বিকৃত ভাষায় গালি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন রাকিব। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিকে রক্ষার দায়িত্ব ছাত্রদল নেবে না।এদিকে ছাত্রদল সভাপতির এই পোস্টের পর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি রাকিবের পোস্টটি শেয়ার করে নিজের ওয়ালে লেখেন যে, তিনি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পান না। রাকিবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মানুষের বয়স বাড়লে জালিমের খাতায় নাম লেখানো উচিত নয়। আম্মার তার পোস্টে লেখেন, আল্লাহর জিনিস আল্লাহ সময়মতো নিয়ে যাবে, এর মাঝে আর বিন্দুপরিমাণ ভয়ের জায়গা নেই।
দুই ছাত্রনেতার এই পাল্টাপাল্টি ফেসবুক যুদ্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্র রাজনীতির মেরুকরণ এবং নতুন নেতৃত্বের সাথে প্রতিষ্ঠিত ছাত্র সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্ব এই ঘটনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন