এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তাদের দীর্ঘদিনের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ পরিহার করে সম্পূর্ণ প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।
তার এই পোস্টটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।সর্ব মিত্র চাকমা তার পোস্টে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ করার দরকার কী? এখন তো আওয়ামী লীগ সরকারে নেই? তাদের প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসা উচিত।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি তার ব্যক্তিগত চাওয়া যাতে সংগঠনটি আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। তবে এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি বর্তমান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার একটি রূঢ় চিত্রও তুলে ধরেছেন।
ডাকসুর এই নেতা তার লেখনীতে একটি ‘কিন্তু’ উল্লেখ করে বলেন, বিগত সতেরো বছরে সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি বিপজ্জনক বাক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— তা হলো ‘শিবিরের কর্মী নিঃশর্তভাবে হত্যাযোগ্য প্রাণ’। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও সমাজে শিবির কর্মীদের মেরে ফেলাকে অনেকটা ‘জায়েজ’ হিসেবে দেখা হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রদল সভাপতির সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল— “হয় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব।”
সর্ব মিত্রের মতে, এ ধরণের বক্তব্য যদি অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে দেওয়া হতো, তবে মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের নিন্দার ঝড় বইতো। কিন্তু শিবিরের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, পশুপাখির অধিকার নিয়ে যারা সোচ্চার থাকেন, তারাও একজন মানুষের ‘শিবির’ পরিচয়ের কারণে তার মানবাধিকার নিয়ে নীরব থাকেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিবির কর্মীরাও হয়তো অবচেতনভাবে মেনে নিয়েছে যে মানবাধিকার তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়, যা তাদের নীরব প্রতিবাদহীনতায় ফুটে ওঠে।
সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি খুব করে চান শিবির প্রকাশ্যে আসুক। তবে তার আগে সমাজকে তাদের ‘হত্যাযোগ্য প্রাণ’ তকমা থেকে মুক্তি দিয়ে সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তার এই পোস্টটি দেশের ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শিক সহাবস্থান এবং মানবাধিকারের সমবণ্টন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন