জুন ১৬, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
জাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ১৯ জন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। আজ মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে ভোর ৫টার দিকে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টাব্যাপী এক সিন্ডিকেট সভা শেষে নতুন প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলা ও উসকানি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সিন্ডিকেটের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে বিভিন্ন স্তরে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বণ্টন করা হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে পদাবনতি দিয়ে প্রভাষক করা হয়েছে এবং একই বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদের বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামানো হয়েছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদার এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবিরের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ. এ. মামুনকে সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে পাঁচ বছরের প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হোসনে আরাকে সতর্ক করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহাসহ মোট সাতজন শিক্ষক ও একজন সহকারী বা রেজিস্ট্রারকে সম্পূর্ণ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদ আখতারের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি কাঠামোবদ্ধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা পৃথকভাবে নতুন করে তদন্ত করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন