মুজতাহিদ মিনার
জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ায় এক স্বাক্ষরের ভুলে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। বাণিজ্য ইউনিটের অধীনে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শূন্য আসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় প্রথম অবস্থানে থেকেও কেবল উপস্থিতি শিটে অতিরিক্ত স্বাক্ষর না থাকায় তাকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত শূন্য আসনের সাক্ষাৎকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট আটটি শূন্য আসনের বিপরীতে পঞ্চাশ জন শিক্ষার্থীকে ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ কয়েকটি বিভাগে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। বাণিজ্য ইউনিটের অধীনে একাধিক বিভাগে সাক্ষাৎকারের জন্য মনোনীত হলেও শিক্ষার্থীদের একটিমাত্র উপস্থিতি শিট দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
তিনি জানান, একাধিক বিভাগে নাম থাকার পরও আলাদা উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করতে হবে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা পূর্বের ঘোষণা ছিল না। যে কারণে তিনি সামনে থাকা প্রথম শিটেই স্বাক্ষর করেন। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পঞ্চম এবং জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে অপেক্ষমাণ তালিকার শীর্ষে থাকার পরও তাকে কোনো আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নিজ শহর রংপুর হওয়ায় তিনি গুচ্ছভুক্ত অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দক্রম জমা দেননি, ফলে এই বিপর্যয়ের কারণে তার উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রতিবছর কিছু আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারত। তবে ভর্তি কমিটির সদস্য ও জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা উপস্থিতি তালিকা ছিল এবং সেই নিয়মেই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকায় স্বাক্ষর না থাকায় তাকে বিধি অনুযায়ী অনুপস্থিত ধরা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত ডিন ও ভর্তি সংশ্লিষ্ট কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। তবে ওই শিক্ষার্থী যদি লিখিতভাবে আবেদন করেন, তবে তা উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।