রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বর্ণিল আয়োজনে বেরোবির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

রকিবুল হাসান মুন্না

অক্টোবর ১২, ২০২৫, ১০:২১ পিএম

বর্ণিল আয়োজনে বেরোবির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)-এর ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১২ অক্টোবর) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল "শিক্ষা, গবেষণা ও বিপ্লবের চেতনায় দীপ্ত হোক বেরোবির আগামী।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারপার্সন, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, "প্রতিষ্ঠার পর প্রথম ১৫ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। তবে বর্তমানে এটি নতুন করে পুনর্জাগরণের পথে রয়েছে।

এখনই সময় বেরোবিকে একটি মানসম্মত ও জ্ঞাননির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার।" তিনি অবকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি প্রকৃতিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রতিষ্ঠাকালীন "রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ"-এর আহ্বায়ক প্রফেসর ড. রেজাউল হক বলেন, "বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষা আন্দোলনের প্রতীক, যা আজ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দুয়ার উন্মোচন করেছে।"

প্রধান আলোচক হিসেবে প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. লুৎফর রহমান বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি তার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষণার মানে নিহিত। ভবনের চেয়ে মুক্ত চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকারের জ্ঞান-আলোকের কেন্দ্র করে তুলতে পারে।"

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, "বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বেরোবি এখন এক নবজাগরণের পর্যায়ে রয়েছে। আমরা গবেষণা, নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং শিল্প-একাডেমিক সংযোগ জোরদারে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য বেরোবিকে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রূপান্তর করা।"

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জাতীয় পতাকা এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন।

অনুষ্ঠানে "KiK Make the Difference Scholarship 2025"-এর আওতায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। GIZ International Services ও KiK Retailer Brand-এর অর্থায়নে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ও ক্যাডেট কলেজ মোড় প্রদক্ষিণ করে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে আলোকসজ্জায় ঝলমলে বেরোবি ক্যাম্পাস পরিণত হয় উৎসবমুখর এক মিলনমেলায়।