সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জবি দিবস সাদামাটা আয়োজনে উদযাপন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম

জবি দিবস সাদামাটা আয়োজনে উদযাপন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ২০ বছর পেরিয়ে একুশে পদার্পণ করেছে। তবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে ক্যাম্পাসে বিরাজমান শোকের আবহে, এ বছর অত্যন্ত সাদামাটাভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।সোমবার (২৭ অক্টোবর) ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান, স্বপ্ন জয়ে অটল প্রাণ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জবি দিবস-২০২৫ পালন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। প্রতি বছর এই দিনটি জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হলেও, এ বছর চিত্রটি ভিন্ন। প্রথমে শ্যামাপূজার কারণে দিবসটি উদযাপনের তারিখ পিছিয়ে ২২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই গত ১৯ অক্টোবর পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়েদ টিউশন বাসায় নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। সহপাঠীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো ক্যাম্পাসে শোক নেমে আসায় প্রশাসন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন বাতিল করে সাদামাটাভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর সকাল পৌনে ১০টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। পরে বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীম বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা খুব জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করি। তবে এ বছর সবাই শোকে নিমজ্জিত। তাই সাদামাটাভাবে হলেও আমরা সন্তুষ্ট। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।’আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের ঐক্যের প্রতীক। তবে জুবায়েদ ভাইয়ের মৃত্যুতে সবাই ভীষণ মর্মাহত। তাই আনন্দের চেয়ে শোকই আজ বেশি অনুভূত হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। তবে এ বছর দুয়েকটি ঘটনার কারণে পুরো পরিবেশটি শোকাবহ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই আমরা এবার সাদামাটা আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।