জুলাই ১, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে আবাসিক হলে ঢুকে সহকারী প্রক্টর এবং সাধারণ ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনায় ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ৪টি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।অফিস আদেশের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ মে রোজ বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শহীদ আবরার ফাহাদ হল থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে শহীদ নুর হোসেন হলে প্রবেশ করে সহকারী প্রক্টর ও আবাসিক ছাত্রদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
উক্ত সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ২২ মে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির জমাপ্রাপ্ত প্রতিবেদনের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মোট ৬৬ জন ছাত্রকে চার ধরনের শাস্তির আওতায় আনার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। তবে কেন তাদের স্থায়ী শাস্তি প্রদান করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ১০ কার্যদিবস সময় দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্ধারিত চার ধরনের শাস্তির মধ্যে প্রথম ক্যাটাগরিতে উশৃঙ্খল আচরণের জন্য ৮ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার, লিখিত সতর্কীকরণ এবং ২ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে হাতে অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির দায়ে ৬ জন শিক্ষার্থীকে ১ সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বহিষ্কারসহ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তৃতীয় ক্যাটাগরিতে অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুরের অপরাধে ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ২ সেমিস্টার একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বহিষ্কার এবং ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে কর্তব্যরত অবস্থায় সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলামের ওপর সরাসরি আক্রমণের অপরাধে ৬ জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজীবন একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অর্থনীতি বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান দুর্জয় ও সাকির মাহমুদ, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৩ ব্যাচের মো. সৌরভ আহমেদ, ফুড অ্যান্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২২ ব্যাচের মো. আসাদুজ্জামান সাগর ও তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক এবং ইংরেজি বিভাগের ২৩ ব্যাচের আসিফ হোসেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান জানান, তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে এবং শুনানিতে যদি কেউ সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে তাঁর শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন