ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৬:৫৩ পিএম
নীরবে থেমে গেল এক প্রতিবাদী শিল্পীর হৃদস্পন্দন। ফিলিস্তিনি সিনেমা ও নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ বাকরি আর নেই। শিল্প, সংগ্রাম ও মানবিকতার ভাষায় যিনি সারাজীবন কথা বলেছেন, সেই কণ্ঠস্বরটি বুধবার ২৪ ডিসেম্বর ৭২ বছর বয়সে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন সূত্রে জানা যায় যে প্রয়াত এই অভিনেতার ছেলে সালেহ বাকরি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বাবার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
ফিলিস্তিনের নিজ গ্রামেই তাঁকে শেষ বিদায় জানিয়ে সমাহিত করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।১৯৫৩ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী আশির দশকে থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন শুরু করেন।
ফিলিস্তিনি নাগরিক হয়েও তিনি আরবি ও হিব্রু উভয় ভাষায় সমান দক্ষ ছিলেন যা তাঁর কাজে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল। অস্কারজয়ী গ্রিক-ফরাসি পরিচালক কস্তা-গাভরাসের হানা কে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিয়ন্ড দ্য ওয়ালস সিনেমায় একজন ফিলিস্তিনি কয়েদির চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের বা অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবেও মোহাম্মদ বাকরি ছিলেন আপসহীন। ২০০২ সালে তাঁর পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র জেনিন জেনিন বিশ্বব্যাপী ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার ভয়াবহ চিত্র এই প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরায় ইসরায়েল সরকার সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে। এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াই ও নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তবুও বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা আর হুমকির মাঝেও মোহাম্মদ বাকরি কখনো দমে যাননি। শিল্পকে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার বানিয়েছিলেন।
তাঁর ক্যামেরাকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন নিপীড়িত মানুষের সাক্ষ্য হিসেবে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিল্পের মাধ্যমেই বাস্তবতাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব। মোহাম্মদ বাকরির মৃত্যু শুধু একজন সাধারণ অভিনেতা বা নির্মাতার বিদায় নয় বরং এটি ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও প্রতিবাদের এক সাহসী ও উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। তাঁর কাজ আগামী দিনের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি সংগ্রামে তাঁর সাংস্কৃতিক অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন