সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দুঃসময়ে যার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন শাহরুখ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৫, ১১:২৬ এএম

দুঃসময়ে যার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন শাহরুখ

একসময় যে মানুষটি মুম্বাই শহরে মারাত্মক অর্থকষ্টে দিন কাটিয়েছেন, আজ তার নামেই কাঁপে বলিউড। কোটি কোটি টাকার মালিকানা, দুবাইয়ের নিজস্ব আইল্যান্ড থেকে লন্ডনের রাজপ্রাসাদ—সবখানেই এখন তার সাম্রাজ্য। তিনি আর কেউ নন, বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। কিন্তু শাহরুখের আজকের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্ধকার অধ্যায়। আর সেই দুঃসহ সময়ের গল্পই সম্প্রতি উন্মোচন করেছেন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার বিবেক ভাসওয়ানি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে বিবেক স্মৃতিচারণ করেন শাহরুখের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা। তিনি বলেন, সময়টা নব্বইয়ের দশকের। শাহরুখ খান তখন টিভিতে টুকটাক কাজ করছেন, কিন্তু সিনেমায় বড় সুযোগ তখনও জোটেনি। ঠিক সেই সময়েই শাহরুখের মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।বিবেক জানান, একদিন হঠাৎ তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়েন শাহরুখ। টিভিতে অভিনয়ের সূত্রেই বিবেকের সঙ্গে শাহরুখের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল।

সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই সেদিন বিবেকের কাছে প্রায় ভেঙে পড়েছিলেন শাহরুখ। বিবেককে স্পষ্ট বলেছিলেন, তার মা আর বাঁচবেন না, দিদিকে (বোন) নিয়ে তিনি পথে ভেসে যাবেন। শাহরুখ বিবেককে বলেন, ‘দুদিন ধরে খেতে পাইনি। আমাকে দুমুঠো খাবার জোগার করতেই হবে। আমাকে একটা সিনেমায় সুযোগ দাও। খুব অর্থের প্রয়োজন।’

বিবেক ভাসওয়ানি আরও বলেন, ‘ঠিক সেই সময় আজিজ মির্জা ‘রাজু বান গয়া জেন্টালম্যান’ ছবির চিত্রনাট্য লিখছিলেন। শাহরুখের সঙ্গে মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হলো। আর এভাবেই শাহরুখের বলিউডে মূল ধারার সিনেমায় যাত্রা শুরু।’ যদিও বিবেক জানান, দিব্য়া ভারতী ও ঋষি কাপুরের সঙ্গে করা ‘দিওয়ানা’ ছবিটিই শাহরুখের প্রথম মুক্তি পায় এবং তাকে দর্শক মহলে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

বিবেকের কথায়, শাহরুখের মধ্যে শুরু থেকেই অদ্ভুত এক জেদ ছিল। সফল হওয়ার তীব্র খিদে ছিল তার। আর সেই সফলতার জন্য তিনি যে কোনো ধরনের পরিশ্রম করতে রাজি ছিলেন। বিবেকের মতে, শাহরুখ সাফল্য পাননি, বরং তিনি তা অর্জন করে নিয়েছেন।উল্লেখ্য, আজ (২ নভেম্বর) ষাট বছরে পা দিয়েছেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। এরই মধ্যে তার জন্মদিন ঘিরে বিশ্বজুড়ে অনুরাগীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। শোনা যাচ্ছে, এবার জন্মদিনে তিনি মান্নাতে নয়, বরং আলিবাগের বিলাসবহুল বাংলোয় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন।