অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৬:০৯ পিএম
মাইগ্রেন কেবল সাধারণ মাথাব্যথা নয়, এটি একটি জটিল স্নায়ুবিক সমস্যা যা ভুক্তভোগীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির করে দিতে পারে। বিভিন্ন কারণে এই ব্যথার উদ্রেক হতে পারে। তীব্র শব্দ, খুব উজ্জ্বল আলো, বিশেষ কোনো গন্ধ, এমনকি বাতাসের চাপের তারতম্যও মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার ফলেও অনেকের এই তীব্র ব্যথা শুরু হয়। এই সমস্যা একবার শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেক সময় এই অসহ্য মাথাব্যথা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং আশঙ্কার বিষয় হলো, কিছুদিনের মধ্যেই তা আবার ফিরে আসে। মাইগ্রেন অ্যাটাকের সময় আলো, শব্দ বা চারপাশের সবকিছুই রোগীর কাছে বিরক্তিকর এবং অসহ্য মনে হতে পারে।চিকিৎসকরা বলছেন, আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার কিছু সাধারণ অভ্যাস বা পারিপার্শ্বিক কারণ এই ব্যথাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। এগুলো সম্পর্কে সচেতন হলে এবং এড়িয়ে চলতে পারলে মাইগ্রেনের কষ্ট থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকা সম্ভব।
এর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো মানসিক চাপ। দীর্ঘদিনের স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, দুশ্চিন্তা কমিয়ে যতটা সম্ভব হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করা। ঘুমের ঘাটতি বা অনিদ্রা মাইগ্রেনের ব্যথাকে আমন্ত্রণ জানায়। প্রতিদিন নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা তাই অত্যন্ত জরুরি।
খাবারের অনিয়ম এই সমস্যার আরেকটি বড় কারণ। ঠিক সময়ে খাবার না খেলে বা ব্যস্ততার কারণে কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিয়ম করে সময়মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পানে উদাসীন, যার ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। শরীরে ডিহাইড্রেশন দেখা দিলে মিনারেলসের অভাব হয়, যা মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ কারণে দিনে অন্তত দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।
পরিবেশগত কিছু বিষয়ও মাইগ্রেনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। খুব বেশি উজ্জ্বল আলো বা হঠাৎ চোখে ফ্ল্যাশ লাইট পড়লে অনেকের ব্যথা শুরু হয়ে যায়। ব্যথা শুরু হলে তাই দ্রুত অন্ধকার ও নীরব ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। একইভাবে, উচ্চ শব্দ, কোলাহল বা জোরে গান শুনলে মাথাব্যথা বাড়তে পারে। সম্ভব হলে শান্ত পরিবেশে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। পরিমিত পরিমাণে কফি বা চা উপকারী হতে পারে, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ মাইগ্রেনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাইগ্রেনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই কারণগুলো থেকে সচেতনভাবে দূরে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যকর ঘুম, পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও মানসিক শান্তিই হতে পারে এই যন্ত্রণা কমানোর প্রধান উপায়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন