এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
দেশে বায়ুবাহিত রোগ হামের প্রকোপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৬৮৫ জন ব্যক্তির শরীরে হামের সন্দেহভাজন উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৪ জন মারা গেছেন তারা সবাই হামের সন্দেহভাজন রোগী ছিলেন।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ২৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।
সব মিলিয়ে গত পনেরো দিনে দেশে হাম নিশ্চিত হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বর্তমানে ৫৮৫ জনে পৌঁছেছে। প্রতিদিন নতুন করে বিপুল সংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কেবল গত ২৪ ঘণ্টাতেই শনাক্ত হয়েছে ৬৮৫ জন, যা গত কয়েকদিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির হারও আগের চেয়ে বেড়েছে। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩০ জন।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও বায়ুবাহিত রোগ। এটি বিশেষ করে শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ওপর দ্রুত প্রভাব ফেলে।
তীব্র জ্বর ও কাশির পাশাপাশি শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এই রোগের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন