এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
মোবাইল ফোন সেবায় আরোপিত উচ্চ হারের কর ও ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ওপর মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে যে বিপুল করের বোঝা চাপানো হয়েছে, তা যৌক্তিক নয় এবং সরকার এটি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘টেলিকম পলিসি’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব তথ্য জানান।সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমানে দেশের দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে ১০০ টাকার মোবাইল রিচার্জে সরকার সরাসরি ৩৮ টাকা কর বাবদ কেটে নিচ্ছে।
তাঁর ভাষায়, এটি কোনোভাবেই ঠিক নয় এবং ডিজিটাল সেবাকে সর্বজনীন করতে হলে এই খরচ কমিয়ে আনতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রাহকরা অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত মানসম্মত টেলিকম সেবা পাচ্ছেন না, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এক ধরণের ব্যর্থতা।
এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সরকার বদ্ধপরিকর।দেশের ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বর্তমান প্রশাসন দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ফাইভজি (5G) প্রযুক্তির আওতায় আনতে চায়। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে টেলিকম খাতের বিদ্যমান কর কাঠামো একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
করের বিবর্তন সম্পর্কে তথ্য দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফোন সেবায় সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছিল। এর সঙ্গে ১৮ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ সারচার্জ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সিম কর ও রাজস্ব ভাগাভাগি মিলিয়ে ১০০ টাকার রিচার্জে সরকারের ঘরে যেত প্রায় সাড়ে ৫৪ টাকা। পরবর্তীতে গত বছরের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূরক শুল্ক আরও ৩ শতাংশ বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করে। এর ফলে বর্তমানে ১৮ কোটির বেশি সিম গ্রাহককে ১০০ টাকা রিচার্জে ৫৬ টাকারও বেশি কর দিতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই আর্থিক চাপ কমাতে কর কাঠামো সংস্কার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে সরকার।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন