এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১১:১২ এএম
দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহকের জন্য বড় ধরনের সুখবর নিয়ে আসছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন বা বিটিআরসি। দীর্ঘদিনের অভিযোগ বিশেষ করে ঘরের ভেতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটের ধীরগতির সমস্যার সমাধানে নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।
জানা গেছে, বিটিআরসি এখন ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই উদ্যোগ সফল হলে গ্রাহকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর প্রায় ৬০ শতাংশই গ্রাম ও উপশহর এলাকায় বসবাস করেন। যদিও শহরাঞ্চলে নেটওয়ার্ক পরিস্থিতি কিছুটা ভালো, তবে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবার মান নিয়ে এখনও নানা অসন্তুষ্টি রয়েছে।
বিশেষ করে ঘরের ভেতর গেলেই কল ড্রপ হওয়া কিংবা ইন্টারনেটের সিগন্যাল কমে যাওয়ার মতো ভোগান্তি গ্রাহকদের জন্য নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যাগুলো স্থায়ীভাবে সমাধান করতে বিটিআরসি ইতোমধ্যেই গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখন সব অপারেটরের জন্য ‘ই-জিএসএম’ ব্যান্ড চালুর প্রক্রিয়া শুরু হলো।তথ্যমতে, বিটিআরসির কাছে বর্তমানে ৮ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ ‘ই-জিএসএম’ তরঙ্গ মজুদ রয়েছে।
বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি ও বাংলালিংক প্রত্যেকে ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ করে তরঙ্গ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তবে চূড়ান্ত বরাদ্দের আগে সীমান্ত এলাকায় অন্যান্য তরঙ্গের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় কি না, তা যাচাই করতে এক মাসের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় দেওয়া হয়েছে। রবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ফলে তরঙ্গ বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই তারা গ্রাহকদের উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে তারা পরবর্তী বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তরঙ্গ বরাদ্দ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঘরের ভেতরে মোবাইল সিগন্যাল অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। এর ফলে কল ড্রপের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়বে। বিটিআরসির এই পদক্ষেপটি দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যা সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করবে।
যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, ই-জিএসএম প্রযুক্তি মূলত লো-ব্যান্ড তরঙ্গ হওয়ায় এটি দেয়াল বা বাধা ভেদ করে ভেতরে পৌঁছাতে অনেক বেশি কার্যকর। গ্রামীণ ও শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যেখানে সিগন্যাল পৌঁছাতে সমস্যা হয়, সেখানে এই নতুন তরঙ্গ গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করতে পারে। বিটিআরসির এই উদ্যোগটি সফল হলে বাংলাদেশের মোবাইল সেবা বৈশ্বিক মানদণ্ডে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন