সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
দেশের তিন শীর্ষ বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম নবায়নে ৭৫ শতাংশ মূল্যছাড়ের দাবি জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে মেয়াদের শেষ প্রান্তে থাকা ৭৯ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নবায়নে প্রায় ১৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তারা এই প্রস্তাব দিয়েছে। এর পাশাপাশি তরঙ্গ ফির ওপর বিদ্যমান সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারেরও জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সব অপারেটর মিলিয়ে দেশে মোট ৪০৬ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ২০১১ সালের নবায়ন ও ২০২১ সালের নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া ৭৯ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মেয়াদ শেষ হচ্ছে নভেম্বরে। সবশেষ নিলামের দর অনুযায়ী প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২৩৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মূল নবায়ন ফি দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, যার ওপর সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে আরও এক হাজার ২৬৪ কোটি টাকার ভ্যাট যুক্ত হওয়ার কথা।
বিশাল এই আর্থিক চাপ কমাতে তিন অপারেটরের পক্ষ থেকে বিটিআরসির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের দাম ২৩৭ কোটি থেকে কমে দাঁড়াবে মাত্র ৫৯ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি মেগাহার্টজে ছাড় মিলবে ১৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অপারেটররা ১৫ বছরের বদলে ২০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদে এই নতুন তরঙ্গ বরাদ্দ চাইছে। এ ছাড়া পুরো অর্থ ১৫টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংগঠন জিএসএম-এর তথ্যমতে, সারা বিশ্বে মোবাইল সেবাদাতারা তাদের বার্ষিক আয়ের সাত থেকে আট শতাংশ তরঙ্গ কেনায় ব্যয় করলেও বাংলাদেশে এই হার প্রায় দ্বিগুণ। উন্নত নেটওয়ার্ক সেবার বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রয়োজন। অথচ দেশের ১৭ কোটি মোবাইল সিম সংযোগধারীর বিপরীতে এই হার গড়ে মাত্র দুই দশমিক ২৯ মেগাহার্টজ। অপারেটরদের দাবি, যৌক্তিক মূল্যে তরঙ্গ কেনা সম্ভব হলে নেটওয়ার্কের মান বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নত কাভারেজ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
টেলিকম খাতের এই দাবি প্রসঙ্গে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মূল্য সমন্বয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে শুধু সরকারের রাজস্ব আদায় নয়, বরং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের সুবিধার দিকটিই নীতি-নির্ধারণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন