শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

মোবাইল গ্রাহকদের বড় সুখবর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

মোবাইল গ্রাহকদের বড় সুখবর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোবাইল ডাটার মেয়াদ বৃদ্ধি

দেশের কোটি কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর অব্যবহৃত ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেড করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের উত্তরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন এই তথ্য প্রদান করেন।

বর্তমানে দেশের প্রায় ১১ কোটি ৩৫ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন ও চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে অপারেটররা বিভিন্ন প্যাকেজ ডিজাইন করে থাকে। সরকার মনে করছে, গ্রাহকের কেনা ডাটার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত অংশ বাতিল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি বড় সমস্যা। 

এই সমস্যা নিরসনে এবং গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে সংসদে উল্লেখ করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রাহকদের ক্রয়সীমার কথা মাথায় রেখে অপারেটররা বর্তমানে ছোট ছোট মেয়াদভিত্তিক প্যাকেজ অফার করে। 

তবে ডাটার মেয়াদ নির্ধারণের পেছনে টেকনিক্যাল, অর্থনৈতিক এবং নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়গুলোও জড়িত থাকে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বর্তমানে মেয়াদভিত্তিক প্যাকেজের প্রচলন রয়েছে।সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী আরও জানান যে, বিটিআরসির বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একই প্যাকেজ পুনরায় কিনলে বা অটো রিনিউ করলে অব্যবহৃত ডাটা পরবর্তী মেয়াদের সাথে যোগ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কেনা ডাটা হারানোর ভয় থাকে না। এছাড়া অপারেটরদের এখন ১০ বছর মেয়াদের ডাটা প্যাকেজও রয়েছে যা কার্যত আনলিমিটেড মেয়াদেরই নামান্তর। 

মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ও মান নিশ্চিত করতে বিটিআরসি নিয়মিত নজরদারি বাড়াচ্ছে। গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে ইতিমধ্যে সমন্বিত কোয়ালিটি অব সার্ভিস নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনায় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।দেশে ৫জি সেবার বিস্তার নিয়ে ইতিবাচক তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫জি সেবা চালু করা হয়েছে। 

পাশাপাশি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেটসহ সারা দেশের প্রায় ৪০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখন স্বল্প পরিসরে ৫জি সেবা উপভোগ করছেন গ্রাহকরা। প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেটের মানোন্নয়নেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মোবাইল ইন্টারনেটের মান নিশ্চিত করতে কমিশন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিয়মিত ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করছে বলেও সংসদে জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, অব্যবহৃত ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেড হলে তা সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।