আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ আজ এক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। তবে পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকছে না। স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল, পর্তুগালের একটি অংশ, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও উত্তর ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সূর্যের আলো আংশিক ঢেকে যাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।
চাঁদ যখন সরাসরি সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে, তখনই এই মহাজাগতিক ঘটনার সৃষ্টি হয়।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের প্রচ্ছাদন অংশের নিচে অবস্থানকারীরা পূর্ণগ্রাস এবং উপচ্ছাদন এলাকার মানুষেরা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য পৃথিবীর খুব সরু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে অবস্থান করতে হয়, কারণ চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর তুলনামূলক ছোট একটি পথ তৈরি করে।
ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ এই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ১৯৯৯ সালে এবং দেশটিতে পরবর্তী পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখতে দুই হাজার নব্বই সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।নিরাপত্তার খাতিরে খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করেও গ্রহণ দেখা নিরাপদ নয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বিশেষ সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা কিংবা পিনহোল প্রজেক্টরের মতো পরোক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও সূর্যগ্রহণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পূর্ণগ্রহণের সময় সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়, যা সৌরচক্র ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণায় সহায়তা করে।একই রাতে পারসেইড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায় প্রত্যাশিত থাকায় রাতের আকাশেও আরেকটি মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন