ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:৫৩ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ৫টি দেশের প্রধান শহরগুলোতে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভের বিস্তার: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কালিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘শিখ ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) নামক সংগঠনের আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, কানাডার টরেন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার, ইতালির মিলান এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিখ নেতারা অভিযোগ করেন তাদের নেতা হারদ্বীপ সিং নিজ্জার এবং বাংলাদেশের জুলাইযোদ্ধা ওসমান হাদিকে হত্যার পেছনে ভারতের সরাসরি হাত রয়েছে।
তারা দাবি করেন, নিজ্জার এবং হাদি—উভয়ই ভারতীয় আধিপত্যবাদের কঠোর বিরোধিতা করতেন এবং এই কারণেই তাদের সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।ভারত-কানাডা কূটনৈতিক টানাপড়েন বিক্ষোভকারীরা ২০২৩ সালে কানাডার ব্রাম্পটোনে হারদ্বীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গটি পুনরায় সামনে নিয়ে আসেন। সেই সময় নিজ্জার হত্যার ঘটনায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছিল কানাডা সরকার, যার ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছিল। শিখদের দাবি, হাদি হত্যাকাণ্ডও একই ধরনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চালানো একটি ‘টার্গেট কিলিং’।
খলিস্তান ইস্যু ও ভারতের অবস্থান ভারতের পাঞ্জাব রাজ্য মূলত শিখ অধ্যুষিত এবং সেখানে শিখরা ‘খলিস্তান’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ওপর ভারত সরকারের কথিত দমন-নিপীড়নের বিষয়টি বিশ্ববাসীকে জানানোই ছিল এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য।উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদি। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন