মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাদুরোকে বন্দি করায় চীন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ায় যা জানা গেল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

মাদুরোকে বন্দি করায় চীন ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ায় যা জানা গেল

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ‘জোরপূর্বক আটক’ করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের দুই পরাশক্তি চীন ও রাশিয়া। বেইজিং ও মস্কো এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে মাদুরো দম্পতির অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কড়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে একটি সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে বন্দি করেছে, তা ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

চীন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। বেইজিং মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান ‘পুনর্বিবেচনা’ করার আহ্বান জানিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিকোলাস মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার ‘স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মস্কো মনে করে, সমস্যার সমাধানের জন্য সামরিক শক্তি নয়, বরং ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফলপ্রসূ ‘সংলাপ’ হওয়া জরুরি।

উল্লেখ্য, মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাশিয়া ও চীন এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে। দুই দেশের এমন অবস্থানের ফলে ভেনেজুয়েলা ইস্যুটি এখন বিশ্বরাজনীতির বড় এক স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই ইস্যুতে বড় ধরনের উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।