জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়াতে তেল ও গ্যাসের বিশাল এক মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস উন্নয়ন কোম্পানি ওজিডিসিএল। বৃহস্পতিবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন এই খনিগুলো পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই আবিষ্কারকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক নোটিশে ওজিডিসিএল জানিয়েছে যে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় অবস্থিত তাদের অনুসন্ধানী কূপ বারাগজাই এক্স-০১ থেকে পরীক্ষামূলক উত্তোলন সফল হয়েছে। এই কূপ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৮১ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে ওই একই এলাকায় ইতিমধ্যে ওজিডিসিএলের আরও দুটি কূপ সচল রয়েছে যেখান থেকে নিয়মিত তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। নতুন এই কূপটি যুক্ত হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলের উৎপাদন ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেল।ওজিডিসিএল তাদের বিবৃতিতে বলেছে যে নতুন এই আবিষ্কার দেশীয় সম্পদের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে সরাসরি অবদান রাখবে। এছাড়া এটি দেশটির সামগ্রিক হাইড্রোকার্বন রিজার্ভ বেসকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
হিসাব অনুযায়ী নতুন মজুত আবিষ্কারের পর বারাগজাই খনিগুলো থেকে প্রতিদিন এখন আনুমানিক ৯ হাজার ৪৮০ ব্যারেল তেল উত্তোলন করা হচ্ছে। এই পরিমাণটি পাকিস্তানের মোট অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১৪.৫ শতাংশ। বর্তমানে পাকিস্তান প্রতিদিন সব মিলিয়ে প্রায় ৬৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে থাকে।জ্বালানি খাতের এই সাফল্য এমন এক সময়ে এল যখন পাকিস্তান তার ভঙ্গুর অর্থনীতি সামাল দিতে ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল ও গ্যাস কিনতে গিয়ে দেশটিকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করতে হয়। এই সংকট মোকাবিলায় গত বছর পাকিস্তান সরকার তিনটি অফশোর এবং দুটি অনশোর খনির জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পাঁচটি নতুন অনুসন্ধান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার এই নতুন প্রাপ্তি পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও সাধারণ মানুষের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আশার আলো দেখাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন