সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে জাতিসংঘের নতুন বার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে জাতিসংঘের নতুন বার্তা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সাথে জুলাই সনদের ওপর ঐতিহাসিক গণভোট। দেশজুড়ে এখন নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রচারণার ময়দান চাঙ্গা করে তুলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন আয়োজনের চলমান প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। 

তবে সংস্থাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেছে যে নির্বাচনের জন্য এমন একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন যেখানে দেশের সকল নাগরিক কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে জাতিসংঘ সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী এবং বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনকে তারা উৎসাহিত করে। ফারহান হক জোর দিয়ে বলেন যে নির্বাচনে এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব যেখানে সব ব্যক্তি নির্ভয়ে তাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীরাও কোনো বাধা ছাড়াই তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সুযোগ পান। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই যাত্রায় জাতিসংঘের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতিসংঘের এই বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কমনওয়েলথ। ১৪ সদস্য বিশিষ্ট এই শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদো। কমনওয়েলথ সচিবালয় জানিয়েছে যে এই দলে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই দলের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া কতটা বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা। 

তারা জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করবে যা পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হবে।বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বা প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ এবারই প্রথম ব্যাপকভাবে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে যা নির্বাচনের ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন শেষ করে তাদের সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মহাসচিবের কাছে জমা দেবে যা বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আন্তর্জাতিক মহলের এই সরব উপস্থিতি ও নজরদারি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনেই জাতিসংঘ ও কমনওয়েলথের এমন ইতিবাচক কিন্তু সতর্কতামূলক অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।