ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী যেকোনো সময় এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী শনিবারের মধ্যে তেহরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। টানা কয়েকদিন ধরে এই হামলা চলতে পারে বলে পেন্টাগন সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য এই মার্কিন হামলার প্রধান লক্ষ্য হতে পারেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পেলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েল।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তার দেশের হোম ফ্রন্ট কমান্ড ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন শুরু করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আলোচনা শেষ হওয়ার পরই চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে ওমান সাগর এবং ভারত মহাসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে তেহরান। এর আগে হরমুজ প্রণালিতেও তারা প্রতিরক্ষামূলক মহড়া সম্পন্ন করে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র অনড় অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো গঠনমূলক সমঝোতা না হওয়ায় এই সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বর্তমানে ওই অঞ্চলে পঞ্চাশটির বেশি এফ-পঁয়ত্রিশ, এফ-বাইশ এবং এফ-ষোলো যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়কার চেয়েও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন