ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:০৭ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে ট্রাম্প দশ থেকে পনেরো দিনের যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তার প্রতিক্রিয়ায় এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য এই অঞ্চলে সামরিক আগ্রাসনের একটি বাস্তব ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান কোনোভাবেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে চায় না। তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে এবং উদ্ভূত যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে তেহরান সতর্ক করেছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ট্রাম্পের এই সামরিক আগ্রাসনের হুমকি সামনে এলো। সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কিন্তু কূটনৈতিক এই তৎপরতার মাঝেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই দুটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি ডজনখানেক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও ওই অঞ্চলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এবং অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন