সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক চায় ভারত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

বাংলাদেশের সঙ্গে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক চায় ভারত

রণধীর জয়সওয়াল, মুখপাত্র, ভারত

বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও গভীর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই আগ্রহের কথা জানান মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আগামীতে আরও বিস্তৃত হবে।

জয়সওয়াল ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। 

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অংশ নেন। ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারতের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যকার ভিসা কার্যক্রম সম্পর্কেও কথা বলেন মুখপাত্র। তিনি জানান, ভিসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনা করবে নয়াদিল্লি। ভারত মনে করে, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা পারস্পরিক স্বার্থের জন্য জরুরি।এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে টেনে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই সহিংসতার আশঙ্কা করলেও সেখানে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাত কর্মকর্তাকে স্থগিত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মমতা ব্যানার্জির এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্র পাউল অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিজেপি সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিভেদি বলেন, ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং এ বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের পরিষ্কার অবস্থান রয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।