মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের পাল্টা ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের পাল্টা ঘোষণা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হার্ডলাইন অবস্থানের কথা জানান। এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এক রায়ে জানিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। 

আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ভুল আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প জানান তিনি বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে তার অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করবেন।ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী আদালতের এই রায়ের ফলে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য করে আসছে তারা এখন উল্লাস করছে। 

তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সমালোচনা করে বলেন যে তারা দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখাতে পারেননি। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি আদালতের রায়ের আইনি সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন। 

এর মাধ্যমে বিদ্যমান শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে সব দেশের ওপর আরও ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া হবে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান যে শুল্ক কার্যকর করার জন্য তিনি এবার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করবেন। এই আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো দেশের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে তদন্ত করে সরাসরি শুল্ক আরোপ করতে পারে। ট্রাম্প মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে তার জন্য আরও শক্তিশালী বিকল্প পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে শুল্ক হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধ্য করার এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে চাপ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

উল্লেখ্য যে সুপ্রিম কোর্টের ছয়-তিন ভোটের এই রায় ট্রাম্পের পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক নীতির ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বলে দাবি করলেও বাস্তবে আদালতের ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতিও তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটন ডিসির প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর তোষামোদ করার জন্য আদালত এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে যা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের মতো রপ্তানি নির্ভর দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।