সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

শুল্ক আদেশে সই ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পূর্ববর্তী শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করার পর বিকল্প আইনি পথে এই পদক্ষেপ নিলেন তিনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসে এই আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

মূলত আদালতের রায়ে শুল্ক আদায়ের যে পথ বন্ধ হয়েছিল, সেটিকেই নতুন একটি আইনের মোড়কে ফিরিয়ে আনলেন তিনি।নতুন এই আদেশ অনুযায়ী আগামী ১৫০ দিন বিশ্বের সব দেশের ওপর এই ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে। 

ট্রাম্প এবার ১৯৭৪ সালে প্রণীত মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা ব্যবহার করেছেন, যা তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। আদেশের পাশাপাশি তিনি তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আগের শুল্ক ব্যবস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনার জন্য অন্য কোনো শক্তিশালী আইনি পথ আছে কি না তা দ্রুত অনুসন্ধান করা হয়। 

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় তিনি কোনো আপস করবেন না।নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে আদালতের রায়ের পরেও তাঁর কাছে চমৎকার সব বিকল্প আছে। এসব বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থ আদায় করতে পারবে এবং আমেরিকা অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি দাবি করেন। 

তাঁর মতে, যেসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে, তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক আইনের অধীনে সব দেশের ওপর বেসলাইন শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের ফলে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র কেবল শুল্ক খাত থেকেই অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার আয় করেছে। 

যদিও চীন, ভারত, মেক্সিকো ও কানাডার মতো দেশগুলোর সঙ্গে এই নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সেই ক্ষমতাকে অবৈধ বলে রায় দিলে ট্রাম্প এখন ১৯৭৪ সালের আইনের আশ্রয় নিলেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে নতুন করে মেরুকরণ ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করবে।