সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক যুদ্ধের ওপর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রেও নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ট্রাম্পের ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফকে সংবিধান পরিপন্থী এবং অবৈধ বলে ঘোষণা করার পর পূর্বে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

আদালতের এই রায়ের ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত শুল্ক আপাতত কার্যকর থাকছে না। তবে আদালতের এই রায়ের পরপরই দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি পথে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

পূর্বে দরকষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিন এবং চারটি বোয়িং বিমান কেনার শর্ত মেনে নিতে হয়। অর্থনীতিবিদদের ভাষায় এই চুক্তিটি ছিল চরম অসম এবং জবরদস্তিমূলক। 

মার্কিন আদালতের রায়ের ফলে সেই জবরদস্তিমূলক চুক্তির শর্তগুলো এখন আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শুল্ক হার পরিবর্তিত হলেও আগের চুক্তির অন্যান্য শর্তগুলো বহাল থাকবে বলে তারা আশা করে। তবে ট্রাম্প এখন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ১২২ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, তা বাংলাদেশের জন্য সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

নতুন এই নিয়মে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে মার্কিন প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শ্রমবাজার, কাজের পরিবেশ, বেতন কাঠামো এবং পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিবিড়ভাবে তদন্ত করবে। যদি কোনো দেশ তাদের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতা রয়েছে ওই দেশের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার। 

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং কখন কী পরিবর্তন আসবে তা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা নতুন শুল্ক হার নিয়ে কিছুটা আশাবাদী হলেও আমেরিকার কঠোর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মার্কিন আদালতের এই রায় বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর হলেও এখনই বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করা ঠিক হবে না। তাদের মতে, আপাতত কোনো ধরনের তড়িঘড়ি না করে চুপ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। 

এই মুহূর্তে পুনরায় চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি করতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে চলে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশের উচিত হবে পরবর্তী ১৫০ দিনের তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি জোরদার করা। বিশেষ করে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও পরিবেশগত শর্তগুলো পূরণ করতে পারলে এই সংকটকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে। আমেরিকার মূল লক্ষ্য চীন হলেও বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে তাদের নির্ধারিত বাণিজ্যিক শর্তের মধ্যেই থাকতে হবে।