বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

কাতারের দোহায় পুনরায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

কাতারের দোহায় পুনরায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দোহায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে শহরটিতে দ্বিতীয় দফায় এই আক্রমণ চালানো হয়। এর আগে সকালে দোহা প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই স্থানে বারবার হামলা চালানোর ঘটনায় পুরো কাতার জুড়ে বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, শনিবার সকালের হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে দোহার আকাশসীমা।কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দোহার উপকণ্ঠে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি। 

উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। প্রথম দফার হামলার পর কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল বলে দাবি করেছিল মন্ত্রণালয়। 

তবে দ্বিতীয় দফার হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে দেশটির সরকার এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।এর আগে শনিবার সকালে সংঘটিত হামলার পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে ওই হামলায় কোনো ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও হামলা চালানোয় দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই উপর্যুপরি হামলা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ময়দানে উসকানি দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাতার বর্তমানে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারে এই ধরনের আক্রমণ বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল উদেইদ ঘাঁটিতে হামলা চালানোর মাধ্যমে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় সংঘাতের দিকে টেনে আনতে চাইছে। 

বর্তমানে দোহা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কাতার সরকার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: বিবিসি