বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

আল উবেইদ বিমান ঘাঁটি

কাতারের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান দুইটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে কাতার জানিয়েছে যে, ইরানের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উবেইদ থেকে প্রতিহত করা হয়েছে। 

এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় সামরিক অবকাঠামো হিসেবে পরিচিত আল উবেইদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের এমন সরাসরি আক্রমণ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সংকট তৈরি করেছে।

এদিকে গত সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশনেও একটি ড্রোন হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় ইরানি ড্রোন ব্যবহার করার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও এই ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য সিআইএ দপ্তর ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার কাছে ইরানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সংঘাত এখন সরাসরি রূপ নেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। 

আল উবেইদ ঘাঁটিতে হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে যুদ্ধের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।