সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পাকিস্তান সেনাপ্রধানের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৭, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পাকিস্তান সেনাপ্রধানের বৈঠক

শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। 

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই আলোচনায় মূলত সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং এর ফলে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবে এবং যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে নিজেদের বিরত রাখবে। 

উল্লেখ্য যে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল যার লক্ষ্য ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই চুক্তির আইনি ও কৌশলগত বাধ্যবাধকতার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাতে পাকিস্তানকে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। 

কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলি হামলার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে তখন এই শীর্ষ বৈঠকটি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অম্ল-মধুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার কি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে নাকি এই চুক্তির কারণে সরাসরি সামরিক সংঘাতে অংশ নেবে তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইসলামাবাদ এখন পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা না দিলেও সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ইরানের জন্য একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।