সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান, সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ালো আজারবাইজান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইরান, সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ালো আজারবাইজান

ইরান-আজারবাইজান সম্পর্ক

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে চালানো ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনার কয়েক দিন পরই দেশটিতে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। আজ মঙ্গলবার ইরানে পাঠানো এই সহায়তার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বাকুর এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে, যখন ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তোলে। বাকুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি ইরানি ড্রোন তাদের একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। 

ইরান সীমান্তবর্তী নাখিচেভান অঞ্চলে ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হওয়ার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তার সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তেহরান থেকে নিজেদের কূটনীতিকদেরও ফিরিয়ে নেয় আজারবাইজান।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী প্রথম থেকেই ড্রোন হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, আজারবাইজানের মিত্র দেশ ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় গত ৮ মার্চ দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে হওয়া টেলিফোন আলাপের পর। আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের আলোচনার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার কয়েক টন খাদ্য ও ওষুধ তেহরানে পাঠানো হয়েছে।

আলোচনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ড্রোন হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং এতে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দুই নেতা দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো সচল রাখা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য, আজারবাইজানের সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন। গত বছরের মাঝামাঝিতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কার পর বাকু তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না। মানবিক সহায়তা পাঠানোর এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন এক নমনীয়তার আভাস দিচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল