সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কানাডায় মার্কিন দূতাবাসে গুলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

কানাডায় মার্কিন দূতাবাসে গুলি

টরেন্টোতে মার্কিন দূতাবাস

কানাডার টরেন্টোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোরে এই হামলার পর পুরো এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে রেখেছে স্থানীয় পুলিশ। বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে দূতাবাসের আশপাশে বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পাওয়ার সাথে সাথে টরেন্টো পুলিশ অপারেশনস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট আলামত উদ্ধার করে। 

যদিও এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং দূতাবাসের চারপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ গত এক সপ্তাহে টরেন্টোর তিনটি ইহুদি সিনাগগেও একইভাবে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত সোমবার ইরান সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এক ইরানিয়ান-কানাডিয়ানের মালিকানাধীন বক্সিং জিমেও গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। 

একের পর এক এই হামলাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা এগুলোর সাথে বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।কানাডার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত রোববার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। নরওয়ে পুলিশ একে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। 

কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা মতে, ওই বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও সেখানেও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ইতিমধ্যে বিস্ফোরণের সাথে জড়িত এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাব হয়তো এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। 

বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ও ইহুদি স্থাপনাগুলোতে হামলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে যে ইরান স্কুল এবং হাসপাতাল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কানাডা ও নরওয়ের মতো দেশগুলোতে মার্কিন দূতাবাসে এ ধরনের হামলা বিশ্ব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।