রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ১১:০১ এএম

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শনিবার লেনদেন শেষে বিশ্ববাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ১৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। 

অথচ গত মাসের শেষ দিকে অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারিও এই তেলের দাম ছিল মাত্র ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার। অর্থাৎ গত ১৫ দিনের ব্যবধানে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশের মতো যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এই তেলের দাম ৪৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৯৮ দশমিক ৭১ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। 

বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয় এবং বর্তমানে সেখানে উত্তেজনার কারণে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। এই সরবরাহ সংকটই মূলত তেলের দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে।বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ কানাডা এই অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য হিসেবে তারা নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। 

এই পদক্ষেপটিকে ওই সংস্থার ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা আইইএ-র ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলের মজুত ছাড়ার ঘটনা। কানাডার ফেডারেল ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা আগামী মাসগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির পরিমাণও বাড়িয়ে দেবে।